জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি
ভি. এস. খান্দেকর ও 'যযাতি'
বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর ছিলেন প্রথম মারাঠি লেখক যিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর এই কালজয়ী উপন্যাস 'যযাতি' সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য:
বিষয়বস্তু: উপন্যাসটি মহাভারতের একটি সুপরিচিত উপাখ্যান—রাজা যযাতির জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচিত। রাজা যযাতি যিনি তাঁর যৌবন ফিরে পাওয়ার জন্য নিজের পুত্রের কাছে যৌবন ভিক্ষা করেছিলেন।
দার্শনিক দিক: এটি কেবল একটি পৌরাণিক কাহিনী নয়, বরং মানুষের অন্তহীন কামনা, ভোগবিলাস এবং অতৃপ্তির এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। লেখক দেখিয়েছেন যে, ভোগবাদের মাধ্যমে কখনো প্রকৃত শান্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
প্রাসঙ্গিকতা: পৌরাণিক চরিত্রকে ব্যবহার করে খান্দেকর আধুনিক মানুষের নৈতিক সংকট এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কিছু বিশেষ তথ্য
আদর্শবাদ: খান্দেকর তাঁর লেখায় সর্বদা উচ্চ নৈতিক আদর্শ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের কথা বলতেন।
জনপ্রিয়তা: 'যযাতি' ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আজও এটি ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম পঠিত উপন্যাস।
অন্যান্য সম্মান: তিনি ১৯৬০ সালে এই উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।
একটি ছোট সংশোধন: আপনি আগের বছরগুলোর (১৯৭৩) কথা বলছিলেন যেখানে পুরস্কারটি যুগ্মভাবে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ১৯৭৪ সালে ভি. এস. খান্দেকর এককভাবেই এই সম্মাননা পান।
মারাঠি সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর (১৮৯৮–১৯৭৬), যিনি ভি. এস. খান্দেকর নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি ছিলেন প্রথম মারাঠি সাহিত্যিক যিনি ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৭৪) জয় করেছিলেন।
তাঁর জীবন ও সাহিত্যিক দর্শনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সাহিত্যিক আদর্শ ও শৈলী
খান্দেকর ছিলেন একজন ঘোর আদর্শবাদী লেখক। তাঁর লেখায় সমাজ সংস্কারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের নৈতিক উত্তরণের পথ প্রদর্শিত হতো। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সাহিত্য কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং সমাজের দর্পণ এবং পরিবর্তনের হাতিয়ার।
২. কালজয়ী সৃষ্টি: 'যযাতি' (Yayati)
যদিও তিনি অনেক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন, তবে 'যযাতি' তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে।
মূল উপজীব্য: মহাভারতের রাজা যযাতির কাহিনীকে ভিত্তি করে তিনি মানুষের অন্ধ ভোগলিপ্সা এবং অতৃপ্ত কামনার এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন।
বার্তা: উপন্যাসটির মূল বার্তা হলো— "ভোগের দ্বারা কখনো কামনার তৃপ্তি হয় না, বরং তা আগুনের মতো আরও বেড়ে যায়।" এটি আধুনিক মানুষের বস্তুবাদী জীবনের প্রতি এক চরম কষাঘাত।
৩. প্রধান কর্মসমূহ
খান্দেকর কেবল উপন্যাস নয়, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধেও সমান পারদর্শী ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ:
উপন্যাস: যযাতি, অমৃতবেল, উল্কা, কাঞ্চনমৃগ, দোন মনে (দুই মন)।
অন্যান্য: তিনি অনেক মারাঠি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন।
৪. প্রাপ্ত প্রধান সম্মাননা
তিনি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন:
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৬০): 'যযাতি' উপন্যাসের জন্য।
জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (১৯৭৪): প্রথম মারাঠি লেখক হিসেবে এই গৌরব অর্জন।
পদ্মভূষণ (১৯৬৮): ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সম্মান।
৫. একটি মানবিক দিক
খান্দেকর দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর সাধারণ জীবনযাপন এবং উচ্চচিন্তা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর লেখায় শোষিত এবং বঞ্চিত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ফুটে উঠত।
একটি মজার তথ্য: ১৯৭৪ সালে যখন তিনি জ্ঞানপীঠ পান, তখন মারাঠি সাহিত্য জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যা পরবর্তীকালে ভি. ভি. শিরওয়াদকরের মতো লেখকদের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।
Gemini said
বিষ্ণু সখারাম খান্দেকরের 'যযাতি' (Yayati) কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি ভারতীয় সাহিত্যের একটি কালজয়ী মহাকাব্যিক সৃষ্টি। ১৯৭৪ সালে এই উপন্যাসের জন্যই তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। মহাভারতের একটি উপকাহিনীকে ভিত্তি করে রচিত হলেও, এর আবেদন চিরন্তন এবং আধুনিক।
নিচে 'যযাতি' উপন্যাসের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. কাহিনী সংক্ষেপ (পৌরাণিক প্রেক্ষাপট)
মহাভারতের আদিপর্বে রাজা যযাতির কাহিনী বর্ণিত আছে। যযাতি ছিলেন চন্দ্রবংশের এক শক্তিশালী রাজা। তিনি শুক্রাচার্যের অভিশাপে অকালে বৃদ্ধ হয়ে যান। কামনায় মত্ত রাজা এই অকাল বার্ধক্য মেনে নিতে পারেননি। তিনি তাঁর পুত্রদের কাছে অনুরোধ করেন যেন কেউ তাঁর বার্ধক্য গ্রহণ করে নিজেদের যৌবন তাঁকে দান করে। ছোট ছেলে পুরু পিতার ইচ্ছাপূরণ করেন। কিন্তু হাজার বছর ভোগবিলাসে মত্ত থাকার পরও যযাতির তৃপ্তি আসেনি। শেষে তিনি উপলব্ধি করেন যে, কামবস্তু ভোগের দ্বারা কামনা শান্ত হয় না, বরং ঘৃতাহুতির মতো তা আরও দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।
২. উপন্যাসের চরিত্রসমূহ
খান্দেকর এই উপন্যাসে তিনটি প্রধান চরিত্রের মাধ্যমে জীবনের তিনটি ভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলেছেন:
যযাতি: ভোগলিপ্সা এবং অতৃপ্ত কামনার প্রতীক।
** দেবযানী:** দম্ভ, প্রতিহিংসা এবং অধিকারবোধের প্রতীক।
শর্মিষ্ঠা: নিঃস্বার্থ প্রেম, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।
৩. আধুনিক প্রেক্ষাপট ও দর্শন
খান্দেকর কেন একটি প্রাচীন কাহিনী বেছে নিলেন? তার উত্তর লুকিয়ে আছে উপন্যাসের দর্শনে:
ভোগবাদ বনাম ত্যাগ: আধুনিক মানুষ যেভাবে বস্তুগত সুখের পেছনে অন্ধের মতো ছুটছে, যযাতি সেই মানুষেরই এক প্রাচীন প্রতিচ্ছবি।
যৌবনের অপচয়: লেখক দেখিয়েছেন যে, কেবল শারীরিক সক্ষমতাই যৌবন নয়; বরং নৈতিকতা ও আদর্শহীন জীবন এক প্রকার অকাল বার্ধক্য।
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: লেখক এখানে যযাতির মনের দ্বন্দ্ব এবং মানুষের অবদমিত কামনার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন।
৪. প্রাপ্তি ও প্রভাব
পুরস্কার: ১৯৬০ সালে এটি সাহিত্য অকাদেমি এবং ১৯৭৪ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পায়।
অনুবাদ: ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রধান ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে এবং সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
নাটক: এই কাহিনী অবলম্বনে গিরিশ কারনাড তাঁর বিখ্যাত নাটক 'যযাতি' রচনা করেছিলেন।
উপন্যাসের মূল শিক্ষা: > "ন জাতু কামঃ কামানামুপভোগেন শাম্যতি। হবিষা কৃষ্ণবর্ত্মেব ভূয় এভিবর্ধতে॥"
(অর্থাৎ: আগুনের শিখা যেমন ঘৃত আহুতিতে নিভে যায় না বরং বাড়ে, তেমনি ভোগের দ্বারা কামনা কখনো মেটে না।)
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন email :lib.pbc@gmail.com
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭২ -রামধারী সিং 'দিনকর' - হিন্দি - উর্বশী
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৩- ডি আর বেন্দ্রে এবং গোপীনাথ মোহান্তি - কন্নড়/ওড়িয়া - নাকুতান্তি / মাটিমাতাল

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৫ - পি ভি আকিলান - তামিল - চিত্রাপ্পাবাই

- মালয়ালম কবি জি শঙ্কর কুরুপ

- কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'গণদেবতা'-

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার যৌথভাবে দুজন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়েছিল—কন্নড় কবি কে. ভি. পুত্তাপ্পা (কুভেম্পু) এবং গুজরাতি কবি উমাশঙ্কর যোশী।

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৮ - সুমিত্রানন্দন পন্ত - হিন্দি -চিদাম্বরা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৯ - ফিরাক গোরখপুরী - উর্দু - গুল-এ-নগমা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৬ - আশাপূর্ণা দেবী- বাংলা - প্রথম প্রতিশ্রুতি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৭ | কে শিবরাম করন্থ | কন্নড় | মুকাজ্জিয়া কনসুগলু |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৮ | এস এইচ ভি বাৎসায়ন | হিন্দি | কিতনি নাও মে কিতনি বার |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৯ | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য | অসমীয়া | মৃত্যুঞ্জয় |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮০ | এস কে পোট্টেক্কাট | মালয়ালম | ওরু দেশথিন্তে কথা |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | মহাদেবী বর্মা | হিন্দি | সার্বিক অবদান (যামা - বিশেষ উল্লেখে) |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৯ | নির্মল ভার্মা এবং গুরুদয়াল সিং | হিন্দি/পাঞ্জাবি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০০৫ | কুনওয়ার নারায়ণ | হিন্দি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১০ | চন্দ্রশেখর কাম্বার | কন্নড়

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৮ | অমিতাভ ঘোষ | ইংরেজি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৯ | আক্কিথাম নাম্বুথিরি | মালয়ালম

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২১ | নীলমণি ফুকন | অসমীয়া

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৩ | গুলজার এবং জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য | উর্দু/সংস্কৃত

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৪ | বিনোদ কুমার শুক্ল | হিন্দি



No comments:
Post a Comment