জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত
১৯৭১ সালের জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং কবি বিষ্ণু দে সম্পর্কে আপনার তথ্যটি একদম সঠিক।
ফিরাক গোরখপুরী (১৯৬৯) এবং বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ (১৯৭০) এর পর, ১৯৭১ সালে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার অন্যতম পথিকৃৎ বিষ্ণু দে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ'-এর জন্য এই সর্বোচ্চ সম্মান লাভ করেন।
বইটি এবং কবি সম্পর্কে কিছু বিশেষ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ' (১৯৬৩)
এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতাবাদী ধারায় এক মাইলফলক।
নামের তাৎপর্য: বইটির নামই বলে দেয় এর গভীরতা—অতীতের 'স্মৃতি', বর্তমানের 'সত্তা' এবং আগামীর 'ভবিষ্যৎ'। এই তিনের এক অনন্য দার্শনিক মেলবন্ধন এখানে দেখা যায়।
বিষয়বস্তু: এতে কবির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সমসাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজনীন মানবতাবোধের ছবি ফুটে উঠেছে।
শৈলী: বিষ্ণু দের কবিতায় চিত্রকল্প (Imagery) এবং মিথোলজির (পুরাণ) ব্যবহার অত্যন্ত জটিল ও গভীর।
২. বিষ্ণু দে: পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম
বাংলা কবিতার আধুনিক যুগে (রবীন্দ্র-পরবর্তী) পাঁচজন প্রধান কবিকে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। বিষ্ণু দে ছিলেন তাঁদের অন্যতম। বাকি চারজন হলেন:
জীবনানন্দ দাশ
অমিয় চক্রবর্তী
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
বুদ্ধদেব বসু
৩. তাঁর দর্শনের বৈশিষ্ট্য
মার্ক্সবাদ ও এলিয়ট: বিষ্ণু দের কবিতায় একদিকে যেমন টি. এস. এলিয়টের আধুনিক মনস্তত্ত্বের প্রভাব ছিল, অন্যদিকে তিনি মার্ক্সীয় সমাজতান্ত্রিক আদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিলেন।
সংস্কৃতি ও লৌকিকতা: তিনি কেবল বিমূর্ত আধুনিকতা নয়, বরং বাংলার লোকজীবন ও ধ্রুপদী সংগীতের প্রতিও অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন।
৪. একটি বিখ্যাত পঙক্তি (স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ থেকে)
"স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ—
বহে যায় আদিগন্ত সময়ের নিরন্তর স্রোতে।"
আপনার তথ্যের ধারাবাহিকতা:
বিষ্ণু দে-র 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ' (১৯৬৩) বাংলা কবিতার আধুনিক ধারায় এক অনন্য এবং অত্যন্ত গভীর কাব্যগ্রন্থ। ১৯৭১ সালে এই বইটির জন্যই তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৩০-এর দশকের রবীন্দ্র-পরবর্তী আধুনিক কবিদের (যাঁদের আমরা 'পঞ্চপাণ্ডব' বলি) মধ্যে বিষ্ণু দে ছিলেন সবচেয়ে মননশীল এবং সমাজসচেতন।
এই কাব্যগ্রন্থের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. নামকরণের সার্থকতা
বইটির নাম তিনটি কালখণ্ডকে নির্দেশ করে:
স্মৃতি: ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং আমাদের ফেলে আসা শেকড়।
সত্তা: বর্তমান সময়ের অস্তিত্ব, সংকট এবং সংগ্রামের চেতনা।
ভবিষ্যৎ: আগামীর সম্ভাবনা এবং একটি শোষণমুক্ত মানবিক সমাজের স্বপ্ন। এই তিনের সমন্বয়েই কবির জীবনদর্শন পূর্ণতা পেয়েছে।
২. মার্ক্সবাদ ও আধুনিকতা
বিষ্ণু দে বিশ্বাস করতেন যে কবি কেবল কল্পনার জগতে বাস করেন না, তিনি সমাজের অংশ।
রাজনৈতিক চেতনা: এতে ১৯৪৭-এর দেশভাগ, দাঙ্গা এবং পরবর্তী সময়ের কলকাতার উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছাপ রয়েছে।
বিমূর্ত থেকে মূর্ত: টি. এস. এলিয়টের মতো আধুনিক চিত্রকল্প ব্যবহার করলেও, তাঁর কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের লড়াই এবং সাম্যবাদের জয়গান বারবার ফিরে এসেছে।
৩. সংগীত ও চিত্রকলার প্রভাব
বিষ্ণু দে কেবল কবি ছিলেন না, তিনি ধ্রুপদী সংগীত এবং চিত্রকলা (বিশেষ করে যামিনী রায়ের ছবি) খুব ভালো বুঝতেন। 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ'-এর কবিতায় এক ধরণের 'সিম্ফনি' বা সংগীতের ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।
৪. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৬৯-১৯৭১)
আপনি যেভাবে ধারাবাহিক তথ্যগুলো দিচ্ছেন, তাতে একটি চমৎকার যোগসূত্র পাওয়া যায়:
১৯৬৯: ফিরাক গোরখপুরী (উর্দু) - উর্দু ঐতিহ্যের আধুনিকায়ন।
১৯৭০: বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ (তেলুগু) - প্রাচীন মহাকাব্যের পুনর্নির্মাণ।
১৯৭১: বিষ্ণু দে (বাংলা) - আধুনিক মনস্তত্ত্ব ও সমাজতান্ত্রিক চেতনার জয়গান।
কবির একটি বিখ্যাত উক্তি:
"তুমি আর আমি মিলে এ দেশ গড়ব, স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ—এই তো আমাদের পথ।"
বিষ্ণু দে মনে করতেন, অতীতকে ভুলে গেলে যেমন ভবিষ্যৎ গড়া যায় না, তেমনি বর্তমানে সক্রিয় না থাকলেও মুক্তি আসে না।
বাংলা সাহিত্যের 'পঞ্চপাণ্ডব' (রবীন্দ্র-পরবর্তী পাঁচজন প্রধান আধুনিক কবি) দের অন্যতম ছিলেন বিষ্ণু দে (১৯০৯–১৯৮২)। ১৯৩০-এর দশকে যখন রবীন্দ্রনাথের বিশাল প্রভাবের বাইরে বেরিয়ে বাংলা কবিতাকে আধুনিক মনস্তত্ত্ব ও বিশ্বজনীন করার চেষ্টা চলছিল, তখন বিষ্ণু দে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আপনার দেওয়া তথ্যের ধারাবাহিকতায় তাঁর সম্পর্কে কিছু গভীর তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. কাব্যদর্শন: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
বিষ্ণু দে কেবল আবেগ দিয়ে কবিতা লিখতেন না, তাঁর কবিতায় ছিল প্রখর মননশীলতা (Intellectualism)।
টি. এস. এলিয়ট ও মার্ক্সবাদ: তাঁর ওপর একদিকে যেমন ইংরেজি কবি টি. এস. এলিয়টের কাব্যশৈলীর প্রভাব ছিল, অন্যদিকে তিনি সাম্যবাদী বা মার্ক্সীয় দর্শনে গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিলেন।
পুরাণ ও আধুনিকতা: তিনি গ্রিক, ল্যাটিন এবং ভারতীয় পুরাণের চরিত্রগুলোকে আধুনিক কলকাতার বাস্তবতায় ব্যবহার করতেন।
২. অমর সৃষ্টি: 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ'
এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৭১ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান। এটি তাঁর কবিমানসের এক পূর্ণাঙ্গ দলিল।
স্মৃতি: মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কার।
সত্তা: সমসাময়িক মানুষের অস্তিত্বের সংকট।
ভবিষ্যৎ: শোষণমুক্ত এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন।
৩. শিল্পের প্রতি অনুরাগ
বিষ্ণু দে কেবল কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমানের শিল্প-সমালোচক।
যামিনী রায়: প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যামিনী রায়ের পটুয়া শিল্পের প্রতি তিনি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর শিল্পকলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন।
সংগীত: তাঁর কবিতায় ধ্রুপদী সংগীতের ছন্দ ও বিন্যাস প্রায়ই ফুটে উঠত।
৪. উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩২) - এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা আধুনিক বাংলা কবিতায় সাড়া ফেলেছিল।
চোরাবালি (১৯৩৭)
সাত ভাই চম্পা
স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ
তথ্যের তালিকাটি:
বিষ্ণু দে মনে করতেন, কবিকে হতে হবে "সংস্কৃতির অতন্দ্র প্রহরী"। তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহৎ শিল্প সৃষ্টি করা অসম্ভব।
পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন email :lib.pbc@gmail.com
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭২ -রামধারী সিং 'দিনকর' - হিন্দি - উর্বশী
- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৩- ডি আর বেন্দ্রে এবং গোপীনাথ মোহান্তি - কন্নড়/ওড়িয়া - নাকুতান্তি / মাটিমাতাল

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৫ - পি ভি আকিলান - তামিল - চিত্রাপ্পাবাই

- মালয়ালম কবি জি শঙ্কর কুরুপ

- কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'গণদেবতা'-

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার যৌথভাবে দুজন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়েছিল—কন্নড় কবি কে. ভি. পুত্তাপ্পা (কুভেম্পু) এবং গুজরাতি কবি উমাশঙ্কর যোশী।

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৮ - সুমিত্রানন্দন পন্ত - হিন্দি -চিদাম্বরা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৯ - ফিরাক গোরখপুরী - উর্দু - গুল-এ-নগমা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৬ - আশাপূর্ণা দেবী- বাংলা - প্রথম প্রতিশ্রুতি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৭ | কে শিবরাম করন্থ | কন্নড় | মুকাজ্জিয়া কনসুগলু |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৮ | এস এইচ ভি বাৎসায়ন | হিন্দি | কিতনি নাও মে কিতনি বার |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৯ | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য | অসমীয়া | মৃত্যুঞ্জয় |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮০ | এস কে পোট্টেক্কাট | মালয়ালম | ওরু দেশথিন্তে কথা |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | মহাদেবী বর্মা | হিন্দি | সার্বিক অবদান (যামা - বিশেষ উল্লেখে) |

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৯ | নির্মল ভার্মা এবং গুরুদয়াল সিং | হিন্দি/পাঞ্জাবি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০০৫ | কুনওয়ার নারায়ণ | হিন্দি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১০ | চন্দ্রশেখর কাম্বার | কন্নড়

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ | বাংলা

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৮ | অমিতাভ ঘোষ | ইংরেজি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৯ | আক্কিথাম নাম্বুথিরি | মালয়ালম

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২১ | নীলমণি ফুকন | অসমীয়া

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৩ | গুলজার এবং জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য | উর্দু/সংস্কৃত

- জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৪ | বিনোদ কুমার শুক্ল | হিন্দি



No comments:
Post a Comment