কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
নারীর অধরকোণে অমল জ্যোতি
মুক্তোর মতো ঝরে পড়ে হাসি ওষ্ঠের রাঙা কূলে,
পথিক পুরুষ দিশা হারায় সব পরিচয় ভুলে।
সুন্দরী সেই নারীর হাসিতে কী এক গোপন টান,
যাহার পরশে পাথুরে বুকেও জাগে ব্যাকুল গান।
নয় সে কেবল অধর-কম্পন, নয় সে লঘু খেলা,
সে হাসির টানে থমকে দাঁড়ায় মহাকালের বেলা।
কখনো সে হাসি শরতের মেঘে রোদের আলপনা,
কখনো বা যেন মৌন রাতের গভীর মন্ত্রণা।
বুদ্ধিদীপ্ত হাসির ভাঁজে লুকানো সহস্র বোধ,
মুহূর্তে মেটায় পুরুষের মনে পুঞ্জীভূত সব ক্রোধ।
ধীর স্থির সেই হাসির দ্যুতিতে মনস্তত্ত্ব জাগে,
বিশ্ব ভুবন নতুন করিয়া প্রেমের রঙে রাগে।
সংসার-রণে ক্লান্ত পুরুষ যখন হারায় তেজ,
নারীর এক চিলতে হাসি আনে বসন্তের রেশ।
গম্ভীর সেই হাসির মহিমা— হৃদয়ের গূঢ় ভাষা,
যাহার মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় বেঁচে থাকার আশা।
শক্তিশালী যে পুরুষ হৃদয়ে বাঁধিয়াছে পাষাণ,
নারীর হাসির এক ইশারায় সেও হয় ম্রিয়মাণ।
যৌবন যায়, রূপও ফুরায়— সময় বহিয়া চলে,
কেবল ওই মিষ্টি হাসি স্মৃতির প্রদীপে জ্বলে।
সুন্দরী সেই নারীর হাসিতেই বিশ্ব মুগ্ধ রয়,
যাহার কাছে নতি স্বীকারে নেই কোনো লাজ-ভয়।
অধরপ্রান্তে অমলিন থাক সেই মায়ার স্পন্দন,
মিষ্টি হাসিতেই গাঁথা থাকে চির-প্রেমের বন্ধন।
No comments:
Post a Comment