কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
নারীর শ্রবণসুধার নীরব মায়া
হাজার কথার ভিড়ে যখন জগৎ বড়ই বধির,
সেথা ওই নারী শান্ত চোখে রয় যে অতিও ধীর।
সুন্দরী সেই নারীর গুণের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার—
পুরুষের মনে বিষাদ ঘুচাতে যে রহে কর্ণধার।
নয় সে কেবল শ্রবণ করা, নয় সে লৌকিকতা,
মন দিয়ে সে শুনে নিতে জানে প্রাণের গভীর কথা।
পুরুষ যখন জগৎ জিতিছে ক্লান্ত শ্রান্ত মনে,
ব্যথাটুকু তার উজাড় করিয়া কহে যে নিরজনে;
নারীর নীরব মনোযোগ সেথা পরম এক আশ্রয়,
যাহার কাছে সকল দ্বিধা নিমেষে হয় যে জয়।
মনস্তত্ত্ব বলে এ টানেই পুরুষ আপন হারায়,
যে নারী তাহার অব্যক্ত কথা স্মিত হাসিতে সাড়ায়।
দুনিয়ার যত কোলাহল আর স্বার্থের হাহাকার,
নারীর কান যেথা সব কথা শুনে খুলে দেয় দ্বার।
মমতা মাখানো সেই চাহনি আর গভীর আগ্রহ,
পুরুষের মনে জাগায় নিত্য প্রেমেরই সমারোহ।
ধৈর্যশীল সে শোনার মাঝে আছে এক গূঢ় টান,
যাহার কাছে বীরও সঁপিয়াছে আপনার সম্মান।
রূপের আগুনে মোহ জাগে ঠিকই, ক্ষণিকের তরে থাকে,
গুণবতী নারী শোনার মায়ায় চিরকাল বেঁধে রাখে।
বুদ্ধিদীপ্ত সেই সহমর্মী হৃদয়ের এক নাম—
নারীর ধৈর্য্য জয় করিয়াছে পুরুষের অবিরাম।
শব্দের মাঝে যে মৈত্রী গড়ে, আত্মার বন্ধন—
মনোযোগী সেই শ্রোতা নারী-ই চির-সুন্দরের স্পন্দন।
No comments:
Post a Comment