নারীর অগ্নিশিখা ও কাজললতা
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
অচেনা পথের বাঁকে যদি কভু থমকে দাঁড়ায় আঁখি,
সেথায় লুকানো সহস্র কথা শব্দে যায় না রাখি।
পল্লবঘেরা যুগল নয়ন যেন এক গভীর হ্রদ,
যাহার সোপানে আছড়ে পড়ে পুরুষের মনোরথ।
সুন্দরী সেই নারীর চাহনি— ধারালো তলোয়ার,
বিঁধে যায় বুকে, ললাটে জাগায় শিহরণ অনিবার।
কখনো সে চোখ মেঘের মতন করুণায় টলমল,
কখনো আবার ঝরনাধারায় চঞ্চল অতল।
পলকের ছন্দে ঝরে পড়ে কত নীরব অভিমান,
সে আঁখি-ই জানে মানভঞ্জনে গাহিতে প্রেমের গান।
অধর হাসুক কিম্বা না হাসুক, নয়ন যে কথা কয়,
সেই ভাষাতেই পুরুষের মন চিরকাল হয় জয়।
কাজল-কালো সেই মনি জুড়ে মায়ার মায়াজাল,
ছিন্নভিন্ন করিয়া দেয় পুরুষের যত ঢাল।
একাকী প্রহরে পুরুষ যখন হারায় আপন দিশা,
নারীর চোখের ইশারা কাটায় ঘোর অমানিশা।
বুদ্ধিদীপ্ত দীপ্ত চাহনি, গাম্ভীর্য ভরা রূপ,
যাহার অতলে হারায় হৃদয়, নিস্তব্ধ নিশ্চুপ।
যৌবন আসে, সৌন্দর্য কমে, সময় ফুরায় শেষে,
কেবল নয়ন অমলিন রয় স্মৃতিরই আবশেষে।
নারীর চোখের মনস্তত্ত্ব বিধাতার এক দান,
যাহার আকর্ষণে কবিরা লিখেছে মহাকাব্যিক গান।
নয়ন যেথা দর্পণ সম, প্রতিচ্ছবি রয় তারি—
সুন্দরী সেই চোখের ভাষাই জগত জিতিছে নারী।
No comments:
Post a Comment