সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ সম্পর্কে কোরআনের বানী
আসসালামুয়ালাইকুম মোমেনগন 🙋♂️🙋♂️🙋♂️ পবিত্র অল্ কোরাআন কেবল মাত্র ধর্ম গ্রন্থ নয়। বিশ্ব মানব কল্যাণে উৎকৃষ্ট আধ্যাত্মিক পরিপুরক গ্রন্থ। পবিত্র “রমজান মাসে অল্ কোরআনের সাথে” অর্থ না বুঝে কেবল মাত্র আরবি উচ্চারণ আর নয় চলুন আরবি উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলা অর্থ বুঝার ও আমল করার চেষ্টা করি : ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুযায়ী সম্পত্তির সঠিক বণ্টন নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারীদের ওপর। আপনি যদি নিচের তথ্যগুলো দিতে পারেন, তবে আমি আপনাকে সুনির্দিষ্ট হিসাব করে দিতে পারব:
১. মৃত ব্যক্তির লিঙ্গ: তিনি পুরুষ না নারী?
২. জীবিত উত্তরাধিকারী কারা:
* স্ত্রী বা স্বামী: আছেন কি না?
* সন্তান: কয়জন ছেলে এবং কয়জন মেয়ে?
* পিতা-মাতা: তাঁরা জীবিত আছেন কি না?
* ভাই-বোন: (যদি সন্তান না থাকে, তবে ভাই-বোনের সংখ্যা ও লিঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ)।
একটি সাধারণ উদাহরণ (সহজ বোঝার জন্য):
যদি একজন ব্যক্তি মারা যান এবং তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে জীবিত থাকেন, তবে বণ্টনটি সাধারণত এমন হয়:
স্ত্রী: মোট সম্পত্তির ১/৮ অংশ (আট ভাগের এক ভাগ) পাবেন।
বাকি অংশ: স্ত্রী নেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ হবে। অর্থাৎ, ছেলে যা পাবে, মেয়ে তার অর্ধেক পাবে।
পারিবারিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ মীমাংসার জন্য পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা আন-নিসার ১১, ১২ এবং ১৭৬ নম্বর আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টন পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ নিরসন এবং ন্যায়ের পথে চলার জন্য নিচের আয়াতগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. উত্তরাধিকার বণ্টনের মূল বিধান (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১)
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সন্তানদের এবং বাবা-মায়ের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আরবী:
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنثَيَيْنِ...
বাংলা অর্থ:
"আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান..."
২. অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৮)
সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের সময় অনেকে প্রভাব খাটিয়ে অন্যের অংশ দখল করতে চায়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ সতর্ক করেছেন:
আরবী:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
বাংলা অর্থ:
"তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কোনো অংশ জেনে-শুনে পাপাচারীরূপে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে নিয়ে যেও না।"
৩. ইয়াতীমের সম্পদ রক্ষা (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০)
পারিবারিক বিবাদে অনেক সময় ইয়াতীমরা বঞ্চিত হয়। তাদের সম্পদ গ্রাসকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন হুঁশিয়ারি:
আরবী:
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَىٰ ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا ۖ وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
বাংলা অর্থ:
"নিশ্চয়ই যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা আসলে নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।"
৪. আল্লাহর সীমারেখা (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৩-১৪)
উত্তরাধিকার বণ্টন পদ্ধতি বর্ণনার ঠিক পরেই আল্লাহ বলেছেন:
তিলকা হুদুদুল্লাহ (এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা): যারা এই বণ্টন নীতি মেনে চলবে, আল্লাহ তাদের জান্নাত দেবেন।
অমান্যকারীর শাস্তি: আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অমান্য করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে (সম্পত্তি সঠিক বণ্টন না করে), তাকে তিনি চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
মূল শিক্ষা
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, সম্পত্তি কেবল নিজের খেয়ালখুশি মতো ভাগ করার বিষয় নয়, বরং এটি একটি ইবাদত। বিবাদ এড়ানোর সেরা উপায় হলো ফারায়েজ (ইসলামী উত্তরাধিকার আইন) অনুযায়ী যার যতটুকু প্রাপ্য তা বুঝিয়ে দেওয়া। তফসীর বা অর্থ প্রকাশে যদি কোনো ভ্রান্তি থাকে জানান আমার আগ্রহ জানার। ভালো লাগলে অবশ্য আমাকে ফ্লো করুন। লাইক-শেয়ার-কমেন্ট করুন পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নিজে জানুন আমল করুন ও অপর কে শেয়ার করে জানানোর ব্যবস্থা করলে সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ হাফিজ।। আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐পাঁশকুড়া।। মুসলিম সমাজের সমস্যা ও সমাধানে আল্লাহর বিধান প্রতি দিন 10 টি পোস্ট রমজান মাসের এই কটি দিন সবাই মিলে আমল করার চেষ্টা করি।। আল্লাহ আমাদের কে ইসলামের বিধানের মধ্যে কার্যকর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন❤

No comments:
Post a Comment