শ্রী শ্রী গৌর-আরতি
চৈতন্য মহাপ্রভুর পরম ভক্ত শ্রীবাস পণ্ডিত, গদাধর পণ্ডিত ও অন্যান্য পার্ষদদের সঙ্গে নিয়ে করা শ্রীগৌর-আরতির এই আরতিটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি সাধারণত শ্রীভক্তি বিনোদ ঠাকুরের রচিত। নিচে আরতির কথাগুলো দেওয়া হলো:
শ্রী শ্রী গৌর-আরতি
(জয়) জয় গোরাচাঁদের আরতিকো সাজে।
জনবী-তট-বনে জগমন-লোভে।। (১)
দক্ষিণে নিতাইচাঁদ, বামে গদাধর।
নিকটে অদ্বৈত, শ্রীনিবাস ছত্রধর।। (২)
বসিয়াছে গৌরাচাঁদ রত্ন-সিংহাসনে।
আরতি করেন ব্রহ্মা-আদি দেবগণে।। (৩)
নরহরি-আদি করি’ চামর ঢুলায়।
সঞ্জয়-মুকুন্দ-বাসু-ঘোষ-আদি গায়।। (৪)
শঙ্খ বাজে, ঘণ্টা বাজে, বাজে করতাল।
মধুর মৃদঙ্গ বাজে পরম রসাল।। (৫)
বহু-কোটি চন্দ্র জিনি’ বদন উজ্জ্বল।
গলে বনমালা সাজে ঝিলিমিলি নির্মল।। (৬)
শিব-শুক-নারদ প্রেমে গদগদ।
ভকতিবিনোদ দেখে গোরার সম্পদ।। (৭)
সংক্ষিপ্ত ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা:
এই আরতিটি মূলত নবদ্বীপের জাহ্নবী (গঙ্গা) তীরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সান্ধ্যকালীন আরতির এক অপূর্ব বর্ণনা।
·
পার্ষদগণ: আরতিতে মহাপ্রভুর ডানপাশে নিত্যানন্দ প্রভু, বামে গদাধর পণ্ডিত এবং সামনে অদ্বৈত আচার্য অবস্থান করছেন। শ্রীবাস পণ্ডিত তাঁর মাথার ওপর ছত্র ধরে আছেন।
·
পরিবেশ: শঙ্খ, ঘণ্টা এবং করতালির সাথে মধুর মৃদঙ্গ ধ্বনি এক দিব্য পরিবেশ তৈরি করছে।
·
রূপ বর্ণনা: মহাপ্রভুর শ্রীমুখ কোটি চন্দ্রের চেয়েও উজ্জ্বল এবং তাঁর গলায় থাকা বনমালা অপূর্ব শোভা পাচ্ছে।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ ও ইসকন (ISKCON) মন্দিরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই আরতিটি ভক্তিভরে গাওয়া হয়।
শ্রী শ্রী গৌর-আরতি
জয় জয় গোরাচাঁদের আরতিকো শোভা।
জাহ্নবী-তটবনে জগমনোলোভা।।
দক্ষিণে নিতাইচাঁদ, বামে গদাধর।
নিকটে অদ্বৈত, শ্রীনিবাস ছত্রধর।।
বসিয়াছে গোরাচাঁদ রত্নসিংহাসনে।
আরতি করেন ব্রহ্মা-আদি দেবগণে।।
নরহরি-আদি করি’চামর ঢুলায়।
সঞ্জয়-মুকুন্দ-বাসুঘোষ-আদি গায়।।
শঙ্খ বাজে, ঘণ্টা বাজে, বাজে করতাল।
মধুর মৃদঙ্গ বাজে পরম রসাল।।
বহুকোটি চন্দ্র জিনি’বদন উজ্জ্বল।
গলদেশে বনমালা করে ঝলমল।।
শিব-শুক-নারদ প্রেমে গদগদ।
ভকতিবিনোদ দেখে গোরার সম্পদ।।
আরও পড়ুন
হিন্দু ধর্মীয় প্রয়োজনীয় মন্ত্র
তুলসী মাহাত্ম্য-বৃক্ষ হয়েও তুলসী কেন পূজনীয়া?-Tulsi
তুলসী আরতী কির্ত্তন
মঙ্গল আরতি
সন্ধা আরতি/ শ্রী শ্রী গৌর-আরতি
No comments:
Post a Comment