কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
নারীর বাৎসল্য মাখা অপার্থিব জ্যোতি
কোলেতে শিশুটি যখন হাসে নারীর নিবিড় টানে,
সে এক স্বর্গ নেমে আসে যেন ধরাতলে সাবধানে।
সুন্দরী সেই নারীর নয়নে স্নেহের যে এক ধারা,
পুরুষের মনে জাগায় সে যে দিকভুল করা তাড়া।
নয় সে কেবল বাহ্যিক রূপ, নয় সে মুখের শোভা,
শিশুর প্রতি সে মায়াটি তাহার— বড়ই চিত্তলোভা।
কোমল হস্তে শিশুর কেশে বিলি কাটে যখন নারী,
মুহূর্তে পুরুষ বিশ্বজয়ের অহংকার দেয় পাড়ি।
মনস্তত্ত্ব বলে এ প্রেমেই পূর্ণতা পায় প্রাণ,
যেথা নারীর হৃদয়ে বাজে চির-জননীর গান।
সহস্র রূপের দর্প চূর্ণ হয় সেই স্নেহের কাছে,
যেখানে মমতা সমুদ্র সম সযতনে জেগে আছে।
উচ্চহাসি আর প্রসাধন সব তুচ্ছ মনে হয়,
যখন শিশুর ক্রন্দনে তার হৃদয় আর্দ্র রয়।
পুরুষের চোখে সেই দৃশ্যটি পরম এক আশ্রয়,
যেখানে সকল ক্লান্তি ও গ্লানি নিমেষে শান্তি লয়।
মমতাময়ী ওই নারীটিই হলো পৃথিবীর মূল শক্তি,
যাহার বাৎসল্য দেখে পুরুষে জাগে অতল ভক্তি।
যৌবন শেষে শরীরী আকর্ষণ যদিবা কমে যায়,
শিশুর প্রতি সে অটল প্রেম অক্ষয় মহিমায়।
সুন্দরী সেই নারী-ই পুরুষের শ্রেষ্ঠ জীবন-সাথী,
যাহার স্নেহের আলোতে কাটে সব আঁধারের রাতি।
বাৎসল্য আর সৌন্দর্যের হোক এক পবিত্র সন্ধি—
নারীর অকৃত্রিম মায়ার জালে পুরুষ থাকুক বন্দি।
No comments:
Post a Comment