কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
নারীর অল্পে তুষ্ট অলকানন্দা
সামান্য এক বুনো ফুলের পাপড়ি ছোঁয়ার সুখে,
এক ফালি চাঁদ ওঠে যখন নারীর স্নিগ্ধ মুখে।
সুন্দরী সেই নারীর অন্তরে সরলতার যে বাস,
পুরুষের মনে জাগায় সে যে চিরস্থায়ী এক আশ।
নয় সে কেবল বিলাসিতা, নয় সে বিত্তের দাবি,
অল্পে খুশি হওয়ার মাঝেই প্রেমের গুপ্ত চাবি।
মাটির প্রদীপ, সামান্য গান কিম্বা সিক্ত হাওয়া,
নারীর কাছে এর মাঝেই যেন জগত খুঁজে পাওয়া।
আকর্ষণ সে তো রূপের নয়, তার মনের এই দ্যুতি,
যাহার কাছে নতি স্বীকার করে পুরুষের যত শ্রুতি।
মনস্তত্ত্ব বলে যে নারী ছোট খুশিতেই বিভোর,
তাহার মায়ায় কাটে পুরুষের সকল আঁধার ঘোর।
দামি গয়না, রেশমি শাড়ি— তুচ্ছ লাগে অতি,
সুন্দরী সেই নারীর যখন হাসিতে ঝরে জ্যোতি।
এক গ্লাস জল, একটু সময়, হাতের পরে হাত,
এই টুকুতেই জয় করা যায় সহস্র কাল রাত।
উচ্চাভিলাষী এই দুনিয়ার ভিড়ে যে নারী অনন্য,
তাহার সরল হাসির ছোঁয়ায় পুরুষ হয় যে ধন্য।
সময়ের টানে সৌন্দর্য যদি হয় কোনোদিন ম্লান,
তুষ্ট মনের নারী তবুও গেয়ে যায় জীবনের গান।
পুরুষের চোখে সেই নারী তো এক পবিত্র শান্তির নীড়,
যাহার জন্য ত্যজিতে পারে সে জগতের সব ভিড়।
অল্পে তুষ্টির অলঙ্কারটি রচুক নতুন এক ছন্দ—
সরল নারীর প্রেমে পুরুষ হোক চিরকাল আনন্দ।
No comments:
Post a Comment